লেখক মাহমুদুল হক তাঁর 'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে হাস্যরসের মাধ্যমে দুষ্টলোকের স্বাভাবিক পতন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও জয় তুলে ধরেছেন। এখানে দুষ্টলোক হিসেবে বাদশাহ ও উজিরকে এবং সাধারণ মানুষ হিসেবে রাজ্যের ছোটো ছেলেদেরকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজ্যে ঘুড়ি তৈরি ও ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হলেও ছেলেরা তাদের বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে পুনরায় আকাশে ঘুড়ি ওড়াবার সুযোগ পেয়েছিল।
'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে বাদশাহ শমশের আলী তাঁর নামে ঘুড়িতে ব্যঙ্গাত্মক পদ্য লেখার কারণে রাজ্যে ঘুড়ি তৈরি ও ওড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আইন জারি করেছিলেন। এরপর ছেলেরা প্রথমে কলাপাতার তৈরি গোল গোল বস্তু ঘুড়ির মতো ওড়ানো শুরু করে। তখন তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তারা যুক্তি দেয় যে, যা ওড়ে তার সবকিছুই ঘুড়ি নয়। তাহলে তো উড়োজাহাজ, পাখি, তুলা, ধুলা সবকিছুকেই ঘুড়ি বলতে হবে। তাদের কথা শুনে বাদশাহ চিন্তায় পড়ে যান।
বাদশাহ এ সমস্যার সমাধানে পণ্ডিতকে 'ঘুড়ি' শব্দের অর্থ খোঁজার দায়িত্ব দেন। পণ্ডিতকে সাহায্য করার জন্য ছেলেরাও তার সাথে যায়। পণ্ডিত অর্থ খোঁজার জন্য তাঁর দশমুনে এক বান্ডিল গড়িয়ে গড়িয়ে মেলে ধরেন। তিনি এটির সামনের দিক ধরে থাকেন, আর ছেলেরা তা ঠেলতে ঠেলতে পিছনের দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু ছেলেরা একসময় এটি ছেড়ে দেয়, আর এর ধাক্কা খেয়ে পণ্ডিত গিয়ে পড়েন সমুদ্রে।
এরপর ছেলেরা তাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলটির প্রয়োগ ঘটায়, তারা বাদশাহকে অভিযোগ করে পণ্ডিত কাজ না করে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়েছেন। তখন বাদশাহ তাঁর বিশ্বস্ত উজির আক্কেল আলীকে পণ্ডিতের খোঁজ নিতে পাঠান। কিন্তু পণ্ডিত নিজের ব্যর্থতা স্বীকার না করে উলটো উজিরকে বলেন যে, তিনি বিদ্যার সমুদ্রে 'ঘুড়ি' শব্দের অর্থ খুঁজছেন।
তখন বোকা উজির বাদশাহর সামনে নিজের বাহাদুরি দেখানোর জন্য নিজেও সমুদ্রের মাঝখানে ঘুড়ির অর্থ খুঁজতে নেমে পড়ে এবং ডুবে যায়। পন্ডিত ও উজিরের এ বেহাল অবস্থা করার পর ছেলেরা দল বেঁধে শাহিমহলের ময়দানে আবার ঘুড়ি ওড়াতে যায়। 'ঘুড়ি' শব্দের অর্থ না জানার কারণে বাদশাহও আর তাদের বাধা দিতে পারেন না।
এভাবেই 'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে হেলেরা অত্যন্ত সুকৌশলে বাদশাহ ও তাঁর সহচরদের পরাজিত করে পুনরায় আকাশে ঘুড়ি ওড়াবার সুযোগ আদায় করে নিয়েছিল।
আপনি কি খুঁজছেন “আনন্দপাঠ – সপ্তম শ্রেণি” বইয়ের ব্যাখ্যা, প্রশ্ন–উত্তর ও PDF ডাউনলোড সুবিধা?
তাহলে স্বাগতম SATT Academy–তে – যেখানে ক্লাস ৬-এর বাংলা সাহিত্যের আনন্দময় পাঠ এখন আরও সহজ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর উপায়ে শেখা সম্ভব।
🔗 আনন্দপাঠ – সপ্তম শ্রেণি PDF ডাউনলোড
(সরকারি সাইট থেকে সরাসরি পড়া বা ডাউনলোড করা যাবে)
SATT Academy–এর মাধ্যমে এখন আনন্দপাঠ বইটি পড়া সহজ, মনোমুগ্ধকর এবং পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য কার্যকর।
শুরু করুন শেখার নতুন অধ্যায় – আনন্দের ছন্দে শিক্ষার পথে।
🎓 SATT Academy – শিক্ষার নতুন মানে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?